জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি

nu improvement system

আজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।  সেটি হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি। যেটাকে বাংলাতে বলা হয় মান উন্নয়ন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যে সকল ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে তাদেরকে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা সম্পর্কে অবগত থাকা বিশেষ দরকার রয়েছে। এ ছাড়াও অনেকে ইমপ্রুভমেন্ট সম্পর্কে জানতে চাই বা ধারণা রাখতে চায় কিন্তু খুব ভাল ধারণা কোথাও থেকে পায় না।

আজকের এই পোষ্টে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি। নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনা করব। যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছেন তারা এই পোষ্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন পড়বেন। এবং আশাকরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে আপনি সম্পূর্ণভাবে অবগত হতে পারবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি

এই পোস্টটি সম্পূর্ণ ভাবে পড়ার পর পর আপনার ইমপ্রুভমেন্ট সম্পর্কে মনে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। কারণে এখানে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা সম্পর্কে  বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।  দেরি না করে চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা কাকে বলে?

আমি সহজভাবে উত্তরটি দিয়ে দিচ্ছি।  ধরুন আপনি ৫টি বিষয়ে পরীক্ষা  দিয়েছেন এবং পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে দুটিতে খারাপ করেছেন বা আপনার আশানুরূপ গ্রেড আসেনি। অথবা  আপনি এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছেন। পুনরায় ওই বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিয়ে পাস করা বা ঐ বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে আগের গ্রেড এর তুলনায় ভালো গ্রেড অর্জন করাই হচ্ছে গ্রেড উন্নয়ন বা ইমপ্রুভমেন্ট বা মানোন্নয়ন।

এক বর্ষ থেকে অন্য বর্ষে উঠতে কয় সাবজেক্টে পাশ করতে হয়?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  নিয়ম অনুযায়ী এক বর্ষ থেকে অন্য বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩টি বিষয়ে পাশ করতে হবে এবং জিপিএ ন্যূনতম ১.৭৫অর্জন করতে হয় । ধরুন আপনি সাতটি সাবজেক্টে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তিনটি সাবজেক্টে পাশ করেছেন তাহলে কিন্তু আপনি পরবর্তী বর্ষে প্রমোশন পেয়ে যাবেন।

কয় বিষয়ে ফেল করলে ইয়ার চেঞ্জ হয় না?

ধরুন আপনি ডিগ্রী ফার্স্ট ইয়ার বা অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়াশোনা করেন।পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সেকেন্ড ইয়ারে উঠতে চাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি সাতটি সাবজেক্টের পরীক্ষা দিয়ে থাকেন এবং সেখান থেকে চারটি সাবজেক্টে ফেল করেন তবুও কিন্তু আপনি দ্বিতীয় বর্ষের প্রমোশন পাবেন। কিন্তু যদি আপনি পাঁচটি সাবজেক্টে ফেল করেন তাহলে কিন্তু আপনি দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারবেন না। এবং এই যে কথাগুলো আমি এখানে বলছি এটা কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেগুলেশনে উল্লেখ করা রয়েছে।

সুতরাং এই বিষয়ে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না যে কয়টি সাবজেক্টে পাশ করলে পাশ বলে গণ্য করা হবে বা  পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হবে।  এবং কয়টি সাবজেক্টে ফেল করলে ফেল হিসেবে গণ্য হবে বা বা প্রমোশন পেতে হলে কয়টা সাবজেক্ট কি আমাকে পাশ করতে হবে।  আশা করি তারা আমার উত্তরে এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

ইম্প্রভমেন্ট পরীক্ষা কারা দিতে পারবে?

যেসব পরীক্ষার্থীর কোন সাবজেক্টে C, D বা F গ্রেড রয়েছে তারাই ইম্প্রভমেন্ট দিতে পারবেন। আমি আবারও বলছি আপনি যদি কোন সাবজেক্টে C গ্রেড পেয়ে থাকেন বা D গ্রেড পেয়ে থাকেন বা কোন সাবজেক্টে আপনার F গ্রেড এসেছে সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনি ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেয়ার যোগ্য। আপনি ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে পারবেন।

এই অংশে আমি কিছু প্রশ্নের সমাধান দিব। যেটি থেকে আপনারা পরিষ্কার ধারণা পাবেন  কোন কোন ক্ষেত্রে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেয়া যাবে কোন কোন ক্ষেত্রে ইন্সট্রুমেন্ট পরীক্ষা দেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ আমার একটা সাবজেক্টে B- গ্রেড রয়েছে তাহলে আমি কি ওই সাবজেক্ট এর জন্য ইমপ্রুভমেন্ট দিতে পারব? ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিয়ে আমার এই B- রেজাল্ট আছে কি আরও ভালো করতে পারব?

এর স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে না। কেননা আমি আগেই বলেছি ইমপ্রুভমেন্ট শুধুমাত্র তারাই দিতে পারবে যাদের C গ্রেড D গ্রেড বা F গ্রেড রয়েছে। কিন্তু যাদের C+,  B-, B, B+ , A- , A+ গ্রেড রয়েছে তারা কিন্তু ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে পারবে না।

প্রশ্নঃ আমার একটি সাবজেক্ট এ C গ্রেড এসেছে কিন্তু আমি ইম্প্রভমেন্ট দিতে চাইছি না এক্ষেত্রে করণীয় কি? ইমপ্রুভমেন্ট না দিলে কি কোন সমস্যা হবে?

উত্তর: আপনাকে যে ইমপ্রুভমেন্ট দিতেই হবে সেটা কিন্তু বাধ্যতামূলক নয় আপনি চাইলে ইমপ্রুভমেন্ট  দিয়ে ফলাফল আরও ভালো করতে পারেন।  আর যদি মনে হয় যে না আমার যে ফলাফল রয়েছে সেটি তিনি সন্তুষ্ট তাহলে কিন্তু আপনার ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার কোন প্রয়োজন নাই।

F গ্রেড থাকলে কি ইমপ্রুভমেন্ট দেয়া বাধ্যতামূলক?

এখানে আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে কারও ক্ষেত্রে মিলে যেতে পারে সেটি হচ্ছে”  আমার একটি বিষয় F গ্রেড রয়েছে এবং আমি পরবর্তী বর্ষে প্রমোটেড হয়েছি।  আমি ১ম বর্ষ থেকে ২য় বর্ষে বা ৩য় বর্ষে উঠে গেছি।  কিন্তু আমি এখন ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে চাই না সে ক্ষেত্রে কি কন সমসা হবে?

এক্ষেত্রে উত্তরটি হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে হবে কেননা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং রেগুলেশন অনুযায়ী F গ্রেড যদি থাকে তাহলে অবশ্যই ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে হবে।

কারন প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় বর্ষ এবং তৃতীয় বর্ষের সব বিষয়ে পাস না করা পর্যন্ত আপনি অনার্স ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিতে পারবেন না। প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষে সম্পূর্ণ বিষয়ে পাস না করা পর্যন্ত কিন্তু আপনি ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারবেন না। আশা করি এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আমি বোঝাতে পেরেছি আপনাদের কে।

ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার পর F গ্রেড এসেছে

এখন এই ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে আপনি কোন সাবজেক্টে পাশ করেছেন। কিন্তু ভালো একটি রেজাল্ট নিয়ে পাস করতে পারেননি। আপনি চিন্তা করেছেন যে পরবর্তী বছরে এই সাবজেক্টে ইম্প্রভমেন্ট দিয়ে আপনি ভাল রেজাল্ট করবেন। কিন্তু পরবর্তী বছরে আপনি ইম্প্রভমেন্ট দিয়ে এই সাবজেক্টে আপনি আগের বছরে পাস করেছিলেন সেই  সাবজেক্টে এ আপনি এই বছরের ফেল করেছেন। তাহলে এখন আপনার কি হবে। এরকম প্রশ্ন অনেকেই করেছেন।

এক্ষেত্রে বলব যে আপনার টেনশনের কোনো কারণই নাই । যদি আপনার C গ্রেড হয়ে থাকে বা D গ্রেড হয়ে থাকে এবং আপনি ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে ওই বিষয়ে ফেল করেছেন।  অর্থাৎ যেই সাবজেক্টে পাশ করেছিলেন ওই সাবজেক্টে ইম্প্রভমেন্ট দিয়ে আপনি ফেল করেছেন। এক্ষেত্রে আপনার কোন সমস্যা হবেনা আপনার আগের রেজাল্ট কি ছিল ওই রেজাল্টই গণনা করা হবে  বা  আগের রেজাল্ট ই থেকে যাবে। এটা নিয়ে কোনোরকম দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই।

আগে F গ্রেড ছিল ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার পর আবার F গ্রেড এসেছে

এখন আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে সেটা হচ্ছে, আমার ফলাফল F গ্রেড এসেছে,  কিন্তু যখন ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিলাম তখন আবার ওর এই সাবজেক্টে ফেল করেছি এখন কি করতে পারি। আর আমি কয় বার ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে পারব?

উত্তর: সেক্ষেত্রে আপনি আবার ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে পারবেন। কোন সমস্যা নাই, আপনার রেজিস্ট্রেশন এর মেয়াদ এর মধ্যে। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ থাকাকালীন যতবার আপনার F গ্রেড আসবে ততবার আপনি পরীক্ষা দিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন এর মেয়াদ কতদিন?

যদি আপনি অনার্সে পড়ে থাকেন তাহলে আপনার রেজিস্ট্রেশন এর মেয়াদ সাত বছর। যদি আপনি ডিগ্রী ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার রেজিস্ট্রেশন এর মেয়াদ ছয় বছর। এবং আপনি যদি মাস্টার্সের ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার এর মেয়াদ ৩ বছর।

এখন আর একটি প্রশ্ন করতে পারেন যে আমি ইনভলভমেন্ট বা গ্রেডউন্নয়ন পরীক্ষা দিয়েছি। আমার আগের রেজাল্ট ছিল D গ্রেড।  ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার পরে রেজাল্ট হয়েছে C গ্রেড।  আমি কি আবারও ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিতে পারব ফলাফল  আরো ভালো করার জন্য।

এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে ইমপ্রুভমেন্ট বা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষায় যদি একবার বাড়ে তাহলে পরবর্তীতে আর ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেয়া যায় না। আপনি একটা সাবজেক্টে ফেল করেন এবং আপনি ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিয়ে সেটাতে পাস করেছেন কিন্তু আপনি যেরকম ভাবে পাশ করতে চেয়ে ছিলেন সেরকম রেজাল্ট আপনার হয়নি । আপনি আবারো পরীক্ষা দিতে চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আর পরীক্ষা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আপনি যে পয়েন্ট পেয়েছিলেন সেটা থেকে যদি গ্রেট বেড়ে যায় বা গ্রেট উন্নয়ন হয় বা ইমপ্রুভমেন্ট হয় এরপরে আর পরীক্ষা দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কিত ভিডিও

এই ভিডিওর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি ভিডিওটি দেখেন তাহলে ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন।

তো আমি আশা করছি ইমপ্রুভমেন্ট সম্পর্কে যত ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে বা যত ধরনের প্রশ্ন করা যায় সবগুলোর উত্তর আমি দিয়ে দিয়েছি । তো আশা করা যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি পুরোপুরি ধারণা লাভ করতে পেরেছেন এই পোষ্ট থেকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি

আমরা চেষ্টা করি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি গুলো আপনাদের সামনে সহজ সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করার জন্য।  আপনি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি গুলো পেতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন ভিজিট করুন।  আমরা এখানে বাংলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা ভর্তি সহ সকল কিছু আলোচনা করি খুব সহজে। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।  আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.